রবিবার, ২৬ Jul ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
আজিজুর রহমান >> কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকা জুড়ে কৃষকের মাঠের উর্বর মাটিতে বিদেশী ফল ড্রাগন চাষের উপযোগি হওয়ায় বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন সৌখিন চাষী সাইফুল ইসলাম।
তার বাগানে ড্রাগন ফলে চারা রোপনের ৮ থেকে ৯ মসের মধ্যেই গাছে ফল ধরেছে। রোপনের পর অল্পদিনে উৎপাদন ও অধিক রাবজনক হওয়ায় কেশবপুরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার অনেকেই ওখন ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। সাইফুল ইসলাম গত বছর বাণিজ্যিকভাবে ৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ করেন।
এছাড়া তিনি এ আধুনিক প্রযুক্তির আবাদ উপজেলা ব্যাপী সম্প্রসারণেও ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার সরেজমিনে তার ক্ষেত পরিদর্শন করে দিকনির্দেশনা দেন।উপজেলার গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে সাইফুল আলম পেশায় একজন ভাটা ব্যবসায়ী। পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র থাকার পরও এ ব্যবসা করতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা দিতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হয়।তাই তিনি ভিন্ন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিকল্পনা নেন ড্রাগন ফল আবাদ করার। গত বছর তিনি বাণিজ্যিকভাবে ৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ করেন।সফল সৌখিন চাষী সাইফুল ইসলাম জানান, যশোরের পলাশীর রুদ্রপুর পার্কের পাশে ড্রাগন ফলের আবাদ দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। পরবর্তীতে সেখান থেকে এ গাছের কান্ড সংগ্রহ করে ক্ষেতে লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন। তার ক্ষেতে ২হাজার ৫০০টি সিমেন্টের তৈরী পিলার, রিঙ ও টায়ার স্থাপণ হওয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে ড্রাগন ক্ষেত। তার এ পর্যন্ত পিলার প্রতি এক হাজার টাকা করে খরচ হয়ে গেছে।তিনি ইউটিউব চ্যানেলে ড্রাগন ফলের আবাদ দেখে সে মোতাবেক চাষাবাদ শুরু করেন। ক্ষেতে সার হিসেবে কম্পোষ্ট, ফসফেট, পটাশ, বোরন, জিংক ও ইউরিয়া ব্যবহার করেছেন। এতে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
এ বছর থেকে তার ড্রাগন উৎপাদন শুরু হয়েছে।তার ক্ষেতের ফসলের পরিচর্যায় সার্বক্ষণিক ২০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। এ পর্যন্ত তার যে ব্যয় হয়েছে তা ওই ক্ষেতেরে মিশ্রফসল থেকে উঠে গেছে। সাইফুল আলম শুধু একজন ড্রাগন ফলের চাষী হতে চান না। তিনি ড্রাগন ফলের আবাদ উপজেলা ব্যাপী ছড়িয়ে দিতেও কাজ করছেন।ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক আসছে তার ক্ষেতের ড্রাগন গাছ দেখতে। তার ড্রাগন আবাদ উপজেলা ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুনীর হোসেন তার ক্ষেত সরেজমিনে পরিদর্শনকালে নানাবিধ পরামর্শ প্রদান করেন।
সরেজমিনে তার ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি পিলারে ৪টি করে ড্রাগন গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি গাছে ফুল, ফল এসেছে। পোকার আক্রমন থেকে ফসলকে রক্ষায় ক্ষেতে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমনে সন্ধ্যার পর ক্ষেতে আলোর ফাঁদ পাতারও ব্যবস্থা আছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, এ দেশের আবহাওয়ায় ড্রাগন ফল খুবই উপযোগী। ড্রাগন ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। খেতেও খুব সুস্বাদু। একবার লাগালে ২০ থেকে ২২ বছর ফল খাওয়া ও বাজারজাত করা যায়। সব সময় নতুন জাতের ফসল আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ অব্যাহত রয়েছে।দিন দিন কৃষকরা এসব ফসল আবাদে ঝুকছেন। নতুন এ ফল আবাদে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন আছে। এ উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল উৎপাদনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।